সর্বশেষ
Tuesday, November 19, 2024
Sunday, October 27, 2024
Thursday, October 17, 2024

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
ট্রাইবুনাল সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তালিকায় সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নাম আছে।
গত ১৫ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তুজাসহ বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন।
এর আগে ১৪ অক্টোবর সরকার বিচারপতি গোলাম মর্তুজাকে চেয়ারম্যান এবং বিচারপতি শফিউল আলম ও মহিতুল ইসলামকে সদস্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে।
গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্টে নিয়োগ পাওয়া ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারকের ভেতর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা ও বিচারপতি শফিউল আলমও আছেন।
আগের মাসে প্রসিকিউশন টিম এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা—দুটিই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এই গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৫৩ জন নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হন।
এ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে আইসিটি তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিমের কাছে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ৬০টিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।
তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম এরই মধ্যে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ সংশোধনের জন্য একটি খসড়াও তৈরি করেছে সরকার।

আরও ৪ কমিশন গঠন করছে সরকার
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা জানান।

আরও চার খাত সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টামণ্ডলীর সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, 'সরকার আরও ৪টি নতুন কমিশন গঠনের কাজ শুরু করেছে। এই কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এগুলো হলো-স্বাস্থ্য বিষয়ক, গণমাধ্যম বিষয়ক, শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত এবং নারী বিষয়ক।'
তিনি আরও বলেন, 'স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান হবেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, গণমাধ্যম কমিশনে কামাল আহমেদ, শ্রমিক অধিকার কমিশনের প্রধান হবে সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদ এবং নারী বিষয়ক কমিশনের প্রধান হবেন শিরিণ পারভিন হক।'
'আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে কমিশন চারটি পূর্নাঙ্গ করা হবে,' যোগ করেন তিনি।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাত সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করে। এগুলো হলো-সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন।

জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের কবি

আমাদের যে কোন সঙ্কটে বিপর্যয়ে যেমন ছিল, ঠিক তেমনটা বর্তমানেও বেইনসাফির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরুলের সৃষ্টি আমাদের প্রেরণা। একাত্তর ও নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবে যে কবি আবারো কবিতায়, গানে আর দেয়ালের গ্রাফিতি ও লিখনে প্রাসঙ্গিক। অপরিহার্য অস্তিত্বের জানান দিলেন কবি নজরুল। অনেক আগে বলে গেছেন।
''আমি এই দেশে এই সমাজে জন্মেছি বলে শুধু এই দেশেরই এই সমাজেরই নই। আমি সকল দেশের সকল মানুষের। সুন্দরের ধ্যান তার স্তবগানই আমার উপাসনা, আমার ধর্ম । যে কুলে যে সমাজে যে ধর্মে যে দেশেই জন্মগ্রহণ করিনা সে আমার দৈব । আমি তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি।''
জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের কবি। অসাম্যের বিরুদ্ধে সাম্যের কবি। নজরুলের চেতনাই বাংলাদেশের চেতনা। ফ্যাসিবাদী শাসনের গত ষোল বছর এই চেতনার দ্বার রুদ্ধ করে জাতিকে বিভক্ত করে ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল। ফ্যাসিষ্টরা ভুল চেতনার বয়ান তৈরি করে 'চেতনা' শব্দটিকেই কলঙ্কিত করেছে। জুলাইয় বিপ্লবে বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছে তার কাঙ্ক্ষিত গতিপথ। এই নজরুলকে আমরা আবার আমাদের করে পেয়েছি। তার চেতনায় জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্য ধরে রাখতে নজরুল চর্চার কোন বিকল্প নেই।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নজরুল ইনস্টিটিউট কবির জীবন ও তার সৃষ্টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নজরুল রচনা, স্বরলিপি গ্রন্থ, নিজস্ব পত্রিকা, স্মারক গ্রন্থ, গবেষণা গ্রন্থ, ও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদসহ এই পর্যন্ত মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৪৩৭ টি। এছাড়াও রয়েছে অডিও ক্যাসেট, সিডি, তথ্যচিত্র, পোস্টার সহ কবি নজরুল বিষয়ক তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার। সঙ্গে রয়েছে একটা দারুণ সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। আমি যোগদানের পর বিস্মিত হয়েছি এটা দেখে যে, এই বিপুল তথ্য ভাণ্ডার বছরের পর বছর প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে পড়ে রয়েছে। ঢাকা শহরের মানুষ জার্মান কবির নামে প্রতিষ্ঠিত গ্যেটে ইন্সিটিউটকে অথবা ছায়ানটকে যেভাবে চেনে সেভাবে নজরুল ইন্সটিটিউটকে চেনে না। কারণ, নজরুলকে প্রমোট বা ব্রান্ডিং এর কোনটাই করা হয়নি। প্রসঙ্গে আমাদের কিছু পরিকল্পনা-

১) সংবিধানে জাতীয় ফুল, পাখি, প্রাণি, বৃক্ষ, মাছ, নদী ইত্যাদি থাকলেও আমাদের জাতীয় কবির নাম এখনও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কবি নজরুলকে প্রত্যক্ষভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং জাতীয় কবির গেজেট অতি দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে।
২) স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণীতে এবং সিলেবাসে গুরুত্বের সাথে নজরুলের রচনা ও দর্শনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর পক্ষে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট দাবী তুলবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উদ্যোগী হয়ে আলোচনা করবে।
৩) নজরুল ইনস্টিটিউটকে গণমুখি করার লক্ষে বাংলা একাডেমির মতো সাধারণকে ইনস্টিটিউটের সদস্য হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং সদস্যদের অংশগ্রহণে নিয়মিত সভার আয়োজন করা হবে। নজরুলের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমসাময়িক সাহিত্যিকদের স্মৃতি থেকেও নজরুলকে আবিস্কার করা হবে।
৪) নজরুল সাহিত্যকর্ম ও সমসাময়িক বিশ্বে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের চিন্তাধারার প্রাসঙ্গিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুবাদ ও গবেষণার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠার মতো দ্বিপাক্ষিক এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে কাজ করবে।
৫) নজরুল-স্মৃতি বিজড়িত সকল স্থান ও স্থাপনা অবিকৃত আকারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
৬) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন ধানমন্ডি লেকে 'নজরুল সরোবর' নির্মাণের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন যে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে সেখানে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করার বিষয়ে আমরা উদ্যাগ নিয়েছি।
৭) নজরুলের সকল সৃষ্টি ইংরেজি, আরবি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশসহ পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে নজরুল সমগ্র ইংরেজিতে অনুবাদের কাজ শুরু হয়েছে।
৮) বিদেশে বাংলাদেশের সকল মিশনে নজরুল কর্নার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। তার রচনা পড়তে উৎসাহিত করা হবে।
৯) ছাত্র জনতার বিপ্লবে দেখা গেছে- নজরুল এই জাতির জীবনে কি ভীষণ প্রাসঙ্গিক। সারাদেশ জুড়ে দেয়ালের গ্রাফিতি রেখেছে তার নিদর্শন। আমাদের কাজ হবে এই নজরুল চেতনায় জাতীয় ঐক্যকে অটুট রাখার জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ তথা বিভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করা। আঞ্চলিক লাইব্রেরি ও পাঠাগারকে এর সঙ্গে যুক্ত করা।
১০) জাতীয় কবির প্রকাশনাসমূহ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য বিভাগীয় শহরে 'নজরুল কর্ণার' স্থাপন করে প্রকাশনা বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা। সেই লক্ষে ইতিমধ্যে আমরা ৭টি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারগণের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।
১১) এই সময়ে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে সমকালিন ইস্যুর সঙ্গে নজরুল চেতনাকে মিলিয়ে দেশব্যাপি বিষয় ভিত্তিক আলোচনা সভার আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় "২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আমাদের নজরুল" শীর্ষক রচনা প্রতিযোগি শুরু করেছি।
১২) প্রজন্মের কাছে নজরুল সঙ্গীতের আবেদন তৈরী করতে উন্মুক্ত জায়গায় 'নজরুল কনসার্ট' আয়োজনের পরিকল্পনা হয়েছে।
১৩) তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক নজরুল বায়োপিক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১৪) নজরুলের সমস্ত সৃষ্টিকর্মকে একটি ওয়েব সাইটে নিয়ে আসা। 'নজরুল ডিজিটাল আর্কাইভ' যাতে ই-বুক পাওয়া যাবে।
১৫) নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বরিশাল ও মানিকগঞ্জে স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করে জমির সার্ভে নকশা স্থাপত্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
১৬। নজরুল বন্ধু ড. কাজী মোতাহার হোসেন নজরুলের ভাষ্যেই রমনা লেক-এর যাওয়ার স্মৃতিচারণ করেছেন এবং কবির অনুজ বন্ধু আবদুল কাদির লিখেছেন নজরুল তাকে নিয়ে রমনা লেকের ধারে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বসে তাঁর একটি বিখ্যাত গজল 'নিশি ভোর হল জাগিয়া' রচনা করেছিলেন। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই রমনা লেকের নামকরন- 'নজরুল সরোবর' করা ও নজরুল মঞ্চ তৈরি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।
১৭) নজরুল বিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজন ও মহড়ার জন্য ইনস্টিটিউট বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে অডিটরিয়াম বরাদ্দ প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে পেপারব্যাক- নজরুল রচনাবলি প্রকাশ ও বিক্রি ব্যবস্থা করা হবে।
১৮) নজরুল ইনস্টিটিউট লাইব্রেরী রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হবে এবং লাইব্রেরির সদস্য পদ তৈরি করে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
১৯) প্রতিটি জাতীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিকে যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হবে।
এগুলো আমাদের পরিকল্পনা। আমাদের ইচ্ছা কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভৌগলিক সিমা ছাড়িয়ে বিশ্বজনীন করা। নজরুল আমাদের উন্মেষে, রাষ্ট্রের নির্মাণে, মাটি ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে ও আকাঙ্ক্ষায়, তারুণ্যের উদ্দীপনায়, আনন্দে-বেদনায়, সবসময় প্রাসঙ্গিক আছেন এবং থাকবেন।

সুস্থতার জন্যে যা করণীয়
জীবনধারায় পরিবর্তন ও খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে নতুন বছরের শুরুটা হতে পারে দারুণ সময়। যদিও খুব অল্প সংখ্যক মানুষ তাদের সংকল্পে অটল থাকতে পারেন, তবুও নতুন বছরে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য নেওয়া যেতে পারে বেশ কিছু সংকল্প।

জীবনধারায় পরিবর্তন ও খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে নতুন বছরের শুরুটা হতে পারে দারুণ সময়। যদিও খুব অল্প সংখ্যক মানুষ তাদের সংকল্পে অটল থাকতে পারেন, তবুও নতুন বছরে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য নেওয়া যেতে পারে বেশ কিছু সংকল্প।
ওজন কমান
উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন যদি বেশি হয়ে থাকে, তাহলে সুস্বাস্থ্যের জন্য ওজন কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ঝুঁকি কমতে শুরু করে। ওজন কমাতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খান ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার
স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে ২টি বিষয় জড়িত। প্রথমত, কী খাচ্ছেন এবং দ্বিতীয়ত, কীভাবে খাচ্ছেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফল ও শাক-সবজি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফল ও শাক-সবজিতে ক্যালোরি ও চর্বি কম থাকে, ফাইবার বেশি থাকে এবং এগুলো ভিটামিন ও খনিজের ভালো উত্স। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে।
খুব দ্রুত খাওয়া ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাওয়ার সময় টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে থেকে খাবারটিই উপভোগ করতে হবে। খাওয়ার সময় আপনার পেট ভরে গেলে মস্তিষ্কে সেই বার্তা যেতে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই পেট ভরে গেছে, এমন অনুভব হওয়ার আগেই খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
অলস শুয়ে-বসে থাকা কমান
নিয়মিত ব্যায়াম করার পাশাপাশি শরীরকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখার জন্য অলসভাবে শুয়ে-বসে সময় কাটানো এড়িয়ে চলা উচিত। দৈনন্দিন কাজে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই যা সম্ভব। যেমন: দোকানের দরজার একদম কাছে গাড়ি পার্ক না করে একটু দূরে পার্ক করা এবং হেঁটে দোকানে যাওয়া, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা, টেলিভিশন দেখার সময় সহজ কিছু ব্যায়াম করা।
শারীরিকভাবে যত বেশি সক্রিয় থাকতে পারবেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ততটাই ভালো বোধ করবেন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
প্রতি বছর নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। এতে করে ছোটখাট স্বাস্থ্য সমস্যা বড় আকার ধারণের আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব। শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করলেও প্রতি বছর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ভুলবেন না।
মানসিক চাপ কমান
মানসিক চাপ কমানোর উপায় জানা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হাঁটা বা গান শোনার মতো সাধারণ কাজগুলো সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় বের করার কোনো বিকল্প নেই।
পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম জরুরি
ভালো ঘুম রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা বাড়ায়। আরামদায়ক ঘুমের জন্য রুটিন তৈরি, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টেলিভিশন দেখার সময় কমানো এবং ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরি প্রয়োজনীয় বিষয়। যদি অনিদ্রার সমস্যা থাকে, তাহলে মানসিক চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ধূমপান বন্ধ করুন
ধূমপান শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে। এ ছাড়া, জর্দাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার খাওয়া তামাক মুখের ক্যানসার সৃষ্টি করে এবং নিকোটিন-আসক্তির কারণ হতে পারে। কাজেই সুস্থ থাকতে যেকোনো প্রক্রিয়াতেই তামাক সেবন বন্ধ করার পরিকল্পনা করুন।
সংকল্প বাস্তবায়ন
সুস্থ থাকার জন্য যেসব সংকল্প গ্রহণ করবেন, বছরজুড়ে তার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যায়। কাজেই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই সংকল্প নির্ধারণ করে তা নিয়মিত মেনে চলা উচিত। এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। স্বাস্থ্যকর নতুন অভ্যাস তৈরি করতে সময় ও ধৈর্য শক্তি প্রয়োজন।
সংকল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন: ওজন কমাতে চাওয়ার বদলে ঠিক কতটা ওজন কমানো প্রয়োজন বা কতটা ওজন কমাতে চান, তা নির্ধারণ করুন। ব্যায়াম করতে চাওয়ার বদলে সপ্তাহে প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
লক্ষ্য নির্ধারণে বাস্তববাদী হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিমাণ শারীরিক কসরত শরীরের জন্য ভালো নাও হতে পারে। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়াতে হবে। একইভাবে নতুন কোনো অভ্যাস শুরু করতে চাইলে হঠাৎ অনেক বেশি চাপ নেওয়া ঠিক হবে না।
নতুন অভ্যাস তৈরির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই একেবারে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা সফলতার অন্তরায় হতে পারে। যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে হঠাৎ করেই পছন্দের সব খাবার খাওয়া ছেড়ে দেবেন না। ধীরে ধীরে খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনুন।
Friday, October 11, 2024

‘পূজা কমিটির নেতার অনুরোধে মণ্ডপে যায় ইসলামী গানের দল’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দর নগরীর জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গান পরিবেশন করেন ‘চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি’ নামের একটি সংগীত দলের শিল্পীরা। উপস্থিত দর্শকরা গান উপভোগও করছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই সেই গান নিয়ে তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামে এই গানের দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে জামায়াত শিবিরের। সংগঠনটির দাবি, পূজা উদ্যাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের নিমন্ত্রণে তারা মঞ্চে সম্প্রীতির গান গেয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজা উদ্যাপন কমিটির এই শিল্পীদেরকে দাওয়াত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির ৬ সদস্য জেএম সেন হলে গান পরিবেশন করতে মঞ্চে ওঠেন। তারা সেখানে শাহ আব্দুল করিমের লেখা বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং চৌধুরী আবদুল হালিমের লেখা ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম-শীর্ষক গান দু’টি পরিবেশন করেন। এর মধ্যে শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম গানের একটি খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। আর এতেই শুরু হয় বিতর্ক। ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের দাবি, মণ্ডপে ইসলামী গান গেয়ে পূজার পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। অপরপক্ষের দাবি, এই গানের দল দাওয়াত পেয়ে সেখানে গিয়েছিল। তারা সম্প্রীতির গানই গেয়েছে। আর ছোট একটা বিষয়কে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের নগরের আন্দরকিল্লায় একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা ঠিক পাশেই চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি’র সভাপতি সেলিম জামানের দোকান। মূলত সেই সূত্রেই সেলিমের সঙ্গে সজল দত্তের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সুবাদেই সেলিম জামানের সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জেএম সেন মণ্ডপে গান পরিবেশনের জন্য দাওয়াত দেন সজল দত্ত। এ বিষয়ে সেলিম জামান বলেন, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সজল বাবু আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি ফোন করে বলেন ‘আপনারা একটু আসেন। আপনাদের একটু ফ্লোর দেবো। কিছু দেশাত্মবোধাক গান গাইবেন।’ সে আমন্ত্রণে গিয়ে আমাদের দলটি দুটি সম্প্রীতির গান করে। কিন্তু এটি নিয়ে একটা পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্র করতেই আমরা গান করতে গিয়েছি। আমরা তো জোরপূর্বক কিছুই করিনি। দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিলাম।
চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি জামায়াতের কোনো গানের দল কিনা এমন প্রশ্নে সেলিম জামান বলেন, এটি জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন নয়। শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে আমাদের গানের দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের অনুমতি নিয়ে ওই গানের দলটি পূজা মণ্ডপে এসে গান পরিবেশ করেছে বলে জেনেছি। তবে ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সংগঠনটি জামায়াতের কিনা এমন প্রশ্নে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, এই বিষয়ে আমার জানা নেই। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কয়েকটি ছেলে মণ্ডপে গিয়ে সম্প্রীতির গান গেয়েছে শুনলাম। তবে এদের সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে মণ্ডপে গান বিতর্কের জেরে বৃহস্পতিবার রাতভর জেএম সেন হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে সেনা সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে মণ্ডপে পূজা উদ্যাপন করা হচ্ছে। এরমধ্যে গান গাওয়া ২ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- গান পরিবেশনকারী শহিদুল ইসলাম (৪২) ও নুরুল ইসলাম (৩৪)। শহিদুল নগরীর তানজীমুুল উম্মাহ মাদ্রাসা ও নুরুল করিম দারুল ইফরান মাদ্রাসার শিক্ষক। একই সঙ্গে তাদেরকে দাওয়াত দেয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগগ্ম সম্পাদক সজল দত্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একটি ইসলামী গান গাওয়া নিয়ে ফেসবুকে বেশ সমালোচনা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির একদল শিল্পীকে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করার জন্য অনুরোধ করে। তার অনুরোধে শহীদুল করিম (৪২), মো. নুরুল ইসলাম (৩৪), আব্দুল্লাহ ইকবাল (৩০, রনি (২৮) ও গোলাম মোস্তফা ও মো. মামুন (২৭) গান দুইটি পরিবেশন করেন। সেখানে একটি গানের ভাষায় শব্দ চয়ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বলে প্রতীয়মান হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর হয় এবং বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।
এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে পূজা উদ্যাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন বাদী হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৫ জন মণ্ডপে গান গাওয়া শিল্পী।

