Tuesday, November 19, 2024
Sunday, October 27, 2024
Thursday, October 17, 2024

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
ট্রাইবুনাল সূত্র বলছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তালিকায় সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নাম আছে।
গত ১৫ অক্টোবর বিচারপতি গোলাম মর্তুজাসহ বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে যোগ দেন।
এর আগে ১৪ অক্টোবর সরকার বিচারপতি গোলাম মর্তুজাকে চেয়ারম্যান এবং বিচারপতি শফিউল আলম ও মহিতুল ইসলামকে সদস্য করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে।
গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্টে নিয়োগ পাওয়া ২৩ জন অতিরিক্ত বিচারকের ভেতর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা ও বিচারপতি শফিউল আলমও আছেন।
আগের মাসে প্রসিকিউশন টিম এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা—দুটিই সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এই গণঅভ্যুত্থানে অন্তত ৭৫৩ জন নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হন।
এ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে আইসিটি তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিমের কাছে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ৬০টিরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে।
তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম এরই মধ্যে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ সংশোধনের জন্য একটি খসড়াও তৈরি করেছে সরকার।

আরও ৪ কমিশন গঠন করছে সরকার
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা জানান।

আরও চার খাত সংস্কারের জন্য কমিশন গঠন করছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টামণ্ডলীর সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা জানান।
তিনি বলেন, 'সরকার আরও ৪টি নতুন কমিশন গঠনের কাজ শুরু করেছে। এই কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এগুলো হলো-স্বাস্থ্য বিষয়ক, গণমাধ্যম বিষয়ক, শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত এবং নারী বিষয়ক।'
তিনি আরও বলেন, 'স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান হবেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, গণমাধ্যম কমিশনে কামাল আহমেদ, শ্রমিক অধিকার কমিশনের প্রধান হবে সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদ এবং নারী বিষয়ক কমিশনের প্রধান হবেন শিরিণ পারভিন হক।'
'আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে কমিশন চারটি পূর্নাঙ্গ করা হবে,' যোগ করেন তিনি।
এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন খাত সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করে। এগুলো হলো-সংবিধান, বিচার বিভাগ, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ও দুর্নীতি দমন কমিশন।

জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের কবি

আমাদের যে কোন সঙ্কটে বিপর্যয়ে যেমন ছিল, ঠিক তেমনটা বর্তমানেও বেইনসাফির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরুলের সৃষ্টি আমাদের প্রেরণা। একাত্তর ও নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবে যে কবি আবারো কবিতায়, গানে আর দেয়ালের গ্রাফিতি ও লিখনে প্রাসঙ্গিক। অপরিহার্য অস্তিত্বের জানান দিলেন কবি নজরুল। অনেক আগে বলে গেছেন।
''আমি এই দেশে এই সমাজে জন্মেছি বলে শুধু এই দেশেরই এই সমাজেরই নই। আমি সকল দেশের সকল মানুষের। সুন্দরের ধ্যান তার স্তবগানই আমার উপাসনা, আমার ধর্ম । যে কুলে যে সমাজে যে ধর্মে যে দেশেই জন্মগ্রহণ করিনা সে আমার দৈব । আমি তাকে ছাড়িয়ে উঠতে পেরেছি বলেই কবি।''
জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের কবি। অসাম্যের বিরুদ্ধে সাম্যের কবি। নজরুলের চেতনাই বাংলাদেশের চেতনা। ফ্যাসিবাদী শাসনের গত ষোল বছর এই চেতনার দ্বার রুদ্ধ করে জাতিকে বিভক্ত করে ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল। ফ্যাসিষ্টরা ভুল চেতনার বয়ান তৈরি করে 'চেতনা' শব্দটিকেই কলঙ্কিত করেছে। জুলাইয় বিপ্লবে বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছে তার কাঙ্ক্ষিত গতিপথ। এই নজরুলকে আমরা আবার আমাদের করে পেয়েছি। তার চেতনায় জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্য ধরে রাখতে নজরুল চর্চার কোন বিকল্প নেই।
১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নজরুল ইনস্টিটিউট কবির জীবন ও তার সৃষ্টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। নজরুল রচনা, স্বরলিপি গ্রন্থ, নিজস্ব পত্রিকা, স্মারক গ্রন্থ, গবেষণা গ্রন্থ, ও বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদসহ এই পর্যন্ত মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৪৩৭ টি। এছাড়াও রয়েছে অডিও ক্যাসেট, সিডি, তথ্যচিত্র, পোস্টার সহ কবি নজরুল বিষয়ক তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার। সঙ্গে রয়েছে একটা দারুণ সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। আমি যোগদানের পর বিস্মিত হয়েছি এটা দেখে যে, এই বিপুল তথ্য ভাণ্ডার বছরের পর বছর প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে পড়ে রয়েছে। ঢাকা শহরের মানুষ জার্মান কবির নামে প্রতিষ্ঠিত গ্যেটে ইন্সিটিউটকে অথবা ছায়ানটকে যেভাবে চেনে সেভাবে নজরুল ইন্সটিটিউটকে চেনে না। কারণ, নজরুলকে প্রমোট বা ব্রান্ডিং এর কোনটাই করা হয়নি। প্রসঙ্গে আমাদের কিছু পরিকল্পনা-

১) সংবিধানে জাতীয় ফুল, পাখি, প্রাণি, বৃক্ষ, মাছ, নদী ইত্যাদি থাকলেও আমাদের জাতীয় কবির নাম এখনও সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কবি নজরুলকে প্রত্যক্ষভাবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং জাতীয় কবির গেজেট অতি দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে।
২) স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণীতে এবং সিলেবাসে গুরুত্বের সাথে নজরুলের রচনা ও দর্শনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর পক্ষে কবি নজরুল ইনস্টিটিউট দাবী তুলবে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উদ্যোগী হয়ে আলোচনা করবে।
৩) নজরুল ইনস্টিটিউটকে গণমুখি করার লক্ষে বাংলা একাডেমির মতো সাধারণকে ইনস্টিটিউটের সদস্য হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে এবং সদস্যদের অংশগ্রহণে নিয়মিত সভার আয়োজন করা হবে। নজরুলের বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমসাময়িক সাহিত্যিকদের স্মৃতি থেকেও নজরুলকে আবিস্কার করা হবে।
৪) নজরুল সাহিত্যকর্ম ও সমসাময়িক বিশ্বে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের চিন্তাধারার প্রাসঙ্গিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে অনুবাদ ও গবেষণার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে 'নজরুল সেন্টার' প্রতিষ্ঠার মতো দ্বিপাক্ষিক এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে কাজ করবে।
৫) নজরুল-স্মৃতি বিজড়িত সকল স্থান ও স্থাপনা অবিকৃত আকারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
৬) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন ধানমন্ডি লেকে 'নজরুল সরোবর' নির্মাণের ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন যে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে সেখানে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করার বিষয়ে আমরা উদ্যাগ নিয়েছি।
৭) নজরুলের সকল সৃষ্টি ইংরেজি, আরবি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশসহ পৃথিবীর প্রধান প্রধান ভাষায় অনুবাদের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে নজরুল সমগ্র ইংরেজিতে অনুবাদের কাজ শুরু হয়েছে।
৮) বিদেশে বাংলাদেশের সকল মিশনে নজরুল কর্নার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। তার রচনা পড়তে উৎসাহিত করা হবে।
৯) ছাত্র জনতার বিপ্লবে দেখা গেছে- নজরুল এই জাতির জীবনে কি ভীষণ প্রাসঙ্গিক। সারাদেশ জুড়ে দেয়ালের গ্রাফিতি রেখেছে তার নিদর্শন। আমাদের কাজ হবে এই নজরুল চেতনায় জাতীয় ঐক্যকে অটুট রাখার জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ তথা বিভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করা। আঞ্চলিক লাইব্রেরি ও পাঠাগারকে এর সঙ্গে যুক্ত করা।
১০) জাতীয় কবির প্রকাশনাসমূহ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য বিভাগীয় শহরে 'নজরুল কর্ণার' স্থাপন করে প্রকাশনা বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা। সেই লক্ষে ইতিমধ্যে আমরা ৭টি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারগণের দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।
১১) এই সময়ে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে সমকালিন ইস্যুর সঙ্গে নজরুল চেতনাকে মিলিয়ে দেশব্যাপি বিষয় ভিত্তিক আলোচনা সভার আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় "২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আমাদের নজরুল" শীর্ষক রচনা প্রতিযোগি শুরু করেছি।
১২) প্রজন্মের কাছে নজরুল সঙ্গীতের আবেদন তৈরী করতে উন্মুক্ত জায়গায় 'নজরুল কনসার্ট' আয়োজনের পরিকল্পনা হয়েছে।
১৩) তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক নজরুল বায়োপিক নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১৪) নজরুলের সমস্ত সৃষ্টিকর্মকে একটি ওয়েব সাইটে নিয়ে আসা। 'নজরুল ডিজিটাল আর্কাইভ' যাতে ই-বুক পাওয়া যাবে।
১৫) নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বরিশাল ও মানিকগঞ্জে স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করে জমির সার্ভে নকশা স্থাপত্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
১৬। নজরুল বন্ধু ড. কাজী মোতাহার হোসেন নজরুলের ভাষ্যেই রমনা লেক-এর যাওয়ার স্মৃতিচারণ করেছেন এবং কবির অনুজ বন্ধু আবদুল কাদির লিখেছেন নজরুল তাকে নিয়ে রমনা লেকের ধারে বেড়াতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বসে তাঁর একটি বিখ্যাত গজল 'নিশি ভোর হল জাগিয়া' রচনা করেছিলেন। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই রমনা লেকের নামকরন- 'নজরুল সরোবর' করা ও নজরুল মঞ্চ তৈরি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।
১৭) নজরুল বিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজন ও মহড়ার জন্য ইনস্টিটিউট বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে অডিটরিয়াম বরাদ্দ প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে পেপারব্যাক- নজরুল রচনাবলি প্রকাশ ও বিক্রি ব্যবস্থা করা হবে।
১৮) নজরুল ইনস্টিটিউট লাইব্রেরী রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হবে এবং লাইব্রেরির সদস্য পদ তৈরি করে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
১৯) প্রতিটি জাতীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিকে যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হবে।
এগুলো আমাদের পরিকল্পনা। আমাদের ইচ্ছা কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভৌগলিক সিমা ছাড়িয়ে বিশ্বজনীন করা। নজরুল আমাদের উন্মেষে, রাষ্ট্রের নির্মাণে, মাটি ও মানুষের মুক্তির সংগ্রামে ও আকাঙ্ক্ষায়, তারুণ্যের উদ্দীপনায়, আনন্দে-বেদনায়, সবসময় প্রাসঙ্গিক আছেন এবং থাকবেন।

সুস্থতার জন্যে যা করণীয়
জীবনধারায় পরিবর্তন ও খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে নতুন বছরের শুরুটা হতে পারে দারুণ সময়। যদিও খুব অল্প সংখ্যক মানুষ তাদের সংকল্পে অটল থাকতে পারেন, তবুও নতুন বছরে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য নেওয়া যেতে পারে বেশ কিছু সংকল্প।

জীবনধারায় পরিবর্তন ও খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করতে নতুন বছরের শুরুটা হতে পারে দারুণ সময়। যদিও খুব অল্প সংখ্যক মানুষ তাদের সংকল্পে অটল থাকতে পারেন, তবুও নতুন বছরে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য নেওয়া যেতে পারে বেশ কিছু সংকল্প।
ওজন কমান
উচ্চতা অনুযায়ী আপনার ওজন যদি বেশি হয়ে থাকে, তাহলে সুস্বাস্থ্যের জন্য ওজন কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ঝুঁকি কমতে শুরু করে। ওজন কমাতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খান ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার
স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে ২টি বিষয় জড়িত। প্রথমত, কী খাচ্ছেন এবং দ্বিতীয়ত, কীভাবে খাচ্ছেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফল ও শাক-সবজি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফল ও শাক-সবজিতে ক্যালোরি ও চর্বি কম থাকে, ফাইবার বেশি থাকে এবং এগুলো ভিটামিন ও খনিজের ভালো উত্স। ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার ওজন কমাতে সাহায্য করে।
খুব দ্রুত খাওয়া ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাওয়ার সময় টেলিভিশন ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে থেকে খাবারটিই উপভোগ করতে হবে। খাওয়ার সময় আপনার পেট ভরে গেলে মস্তিষ্কে সেই বার্তা যেতে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাই পেট ভরে গেছে, এমন অনুভব হওয়ার আগেই খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
অলস শুয়ে-বসে থাকা কমান
নিয়মিত ব্যায়াম করার পাশাপাশি শরীরকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখার জন্য অলসভাবে শুয়ে-বসে সময় কাটানো এড়িয়ে চলা উচিত। দৈনন্দিন কাজে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই যা সম্ভব। যেমন: দোকানের দরজার একদম কাছে গাড়ি পার্ক না করে একটু দূরে পার্ক করা এবং হেঁটে দোকানে যাওয়া, লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করা, টেলিভিশন দেখার সময় সহজ কিছু ব্যায়াম করা।
শারীরিকভাবে যত বেশি সক্রিয় থাকতে পারবেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ততটাই ভালো বোধ করবেন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
প্রতি বছর নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। এতে করে ছোটখাট স্বাস্থ্য সমস্যা বড় আকার ধারণের আগেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব। শারীরিকভাবে সুস্থ বোধ করলেও প্রতি বছর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে ভুলবেন না।
মানসিক চাপ কমান
মানসিক চাপ কমানোর উপায় জানা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, হাঁটা বা গান শোনার মতো সাধারণ কাজগুলো সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় বের করার কোনো বিকল্প নেই।
পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম জরুরি
ভালো ঘুম রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা বাড়ায়। আরামদায়ক ঘুমের জন্য রুটিন তৈরি, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টেলিভিশন দেখার সময় কমানো এবং ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরি প্রয়োজনীয় বিষয়। যদি অনিদ্রার সমস্যা থাকে, তাহলে মানসিক চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ধূমপান বন্ধ করুন
ধূমপান শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের ক্ষতি করে। এ ছাড়া, জর্দাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার খাওয়া তামাক মুখের ক্যানসার সৃষ্টি করে এবং নিকোটিন-আসক্তির কারণ হতে পারে। কাজেই সুস্থ থাকতে যেকোনো প্রক্রিয়াতেই তামাক সেবন বন্ধ করার পরিকল্পনা করুন।
সংকল্প বাস্তবায়ন
সুস্থ থাকার জন্য যেসব সংকল্প গ্রহণ করবেন, বছরজুড়ে তার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যায়। কাজেই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানানসই সংকল্প নির্ধারণ করে তা নিয়মিত মেনে চলা উচিত। এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। স্বাস্থ্যকর নতুন অভ্যাস তৈরি করতে সময় ও ধৈর্য শক্তি প্রয়োজন।
সংকল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন: ওজন কমাতে চাওয়ার বদলে ঠিক কতটা ওজন কমানো প্রয়োজন বা কতটা ওজন কমাতে চান, তা নির্ধারণ করুন। ব্যায়াম করতে চাওয়ার বদলে সপ্তাহে প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
লক্ষ্য নির্ধারণে বাস্তববাদী হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হঠাৎ করে অনেক বেশি পরিমাণ শারীরিক কসরত শরীরের জন্য ভালো নাও হতে পারে। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়াতে হবে। একইভাবে নতুন কোনো অভ্যাস শুরু করতে চাইলে হঠাৎ অনেক বেশি চাপ নেওয়া ঠিক হবে না।
নতুন অভ্যাস তৈরির ক্ষেত্রে শুরু থেকেই একেবারে নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা সফলতার অন্তরায় হতে পারে। যদি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আপনার লক্ষ্য হয়, তাহলে হঠাৎ করেই পছন্দের সব খাবার খাওয়া ছেড়ে দেবেন না। ধীরে ধীরে খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন আনুন।
Friday, October 11, 2024

‘পূজা কমিটির নেতার অনুরোধে মণ্ডপে যায় ইসলামী গানের দল’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্দর নগরীর জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে গান পরিবেশন করেন ‘চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি’ নামের একটি সংগীত দলের শিল্পীরা। উপস্থিত দর্শকরা গান উপভোগও করছিলেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই সেই গান নিয়ে তৈরি হয় তুমুল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি নামে এই গানের দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে জামায়াত শিবিরের। সংগঠনটির দাবি, পূজা উদ্যাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের নিমন্ত্রণে তারা মঞ্চে সম্প্রীতির গান গেয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজা উদ্যাপন কমিটির এই শিল্পীদেরকে দাওয়াত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির ৬ সদস্য জেএম সেন হলে গান পরিবেশন করতে মঞ্চে ওঠেন। তারা সেখানে শাহ আব্দুল করিমের লেখা বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং চৌধুরী আবদুল হালিমের লেখা ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম-শীর্ষক গান দু’টি পরিবেশন করেন। এর মধ্যে শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম গানের একটি খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। আর এতেই শুরু হয় বিতর্ক। ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি অংশের দাবি, মণ্ডপে ইসলামী গান গেয়ে পূজার পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে। অপরপক্ষের দাবি, এই গানের দল দাওয়াত পেয়ে সেখানে গিয়েছিল। তারা সম্প্রীতির গানই গেয়েছে। আর ছোট একটা বিষয়কে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের নগরের আন্দরকিল্লায় একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। তারা ঠিক পাশেই চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি’র সভাপতি সেলিম জামানের দোকান। মূলত সেই সূত্রেই সেলিমের সঙ্গে সজল দত্তের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সুবাদেই সেলিম জামানের সাংস্কৃতিক সংগঠনকে জেএম সেন মণ্ডপে গান পরিবেশনের জন্য দাওয়াত দেন সজল দত্ত। এ বিষয়ে সেলিম জামান বলেন, পূজা উদ্যাপন পরিষদের সজল বাবু আমাদের দাওয়াত দিয়েছিলেন। তিনি ফোন করে বলেন ‘আপনারা একটু আসেন। আপনাদের একটু ফ্লোর দেবো। কিছু দেশাত্মবোধাক গান গাইবেন।’ সে আমন্ত্রণে গিয়ে আমাদের দলটি দুটি সম্প্রীতির গান করে। কিন্তু এটি নিয়ে একটা পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্র করতেই আমরা গান করতে গিয়েছি। আমরা তো জোরপূর্বক কিছুই করিনি। দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিলাম।
চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমি জামায়াতের কোনো গানের দল কিনা এমন প্রশ্নে সেলিম জামান বলেন, এটি জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন নয়। শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে আমাদের গানের দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের অনুমতি নিয়ে ওই গানের দলটি পূজা মণ্ডপে এসে গান পরিবেশ করেছে বলে জেনেছি। তবে ওই সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সংগঠনটি জামায়াতের কিনা এমন প্রশ্নে হিল্লোল সেন উজ্জ্বল বলেন, এই বিষয়ে আমার জানা নেই। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কয়েকটি ছেলে মণ্ডপে গিয়ে সম্প্রীতির গান গেয়েছে শুনলাম। তবে এদের সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে মণ্ডপে গান বিতর্কের জেরে বৃহস্পতিবার রাতভর জেএম সেন হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে সেনা সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে শান্তিপূর্ণভাবে মণ্ডপে পূজা উদ্যাপন করা হচ্ছে। এরমধ্যে গান গাওয়া ২ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- গান পরিবেশনকারী শহিদুল ইসলাম (৪২) ও নুরুল ইসলাম (৩৪)। শহিদুল নগরীর তানজীমুুল উম্মাহ মাদ্রাসা ও নুরুল করিম দারুল ইফরান মাদ্রাসার শিক্ষক। একই সঙ্গে তাদেরকে দাওয়াত দেয়ায় চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগগ্ম সম্পাদক সজল দত্তকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একটি ইসলামী গান গাওয়া নিয়ে ফেসবুকে বেশ সমালোচনা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পূজা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজল দত্ত চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির একদল শিল্পীকে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করার জন্য অনুরোধ করে। তার অনুরোধে শহীদুল করিম (৪২), মো. নুরুল ইসলাম (৩৪), আব্দুল্লাহ ইকবাল (৩০, রনি (২৮) ও গোলাম মোস্তফা ও মো. মামুন (২৭) গান দুইটি পরিবেশন করেন। সেখানে একটি গানের ভাষায় শব্দ চয়ন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বলে প্রতীয়মান হয়। পরে পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর হয় এবং বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে।
এদিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে পূজা উদ্যাপন কমিটির অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন বাদী হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৫ জন মণ্ডপে গান গাওয়া শিল্পী।

বাংলাদেশের জন্য ভারত ‘মাইন্ড ব্লক’

হঠাৎ করেই দিল্লির বিবিসি’র প্রধান কার্যালয়ে আমন্ত্রণ। ভারতের রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রেই এই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাটির অফিস। প্রবেশ মুখে বেশ ভালোই সিকিউরিটি ব্যবস্থা। তা পেরিয়ে অফিসে প্রবেশ করতেই বোঝা গেল পূজার ছুটির আমেজ লেগেছে। সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিবিসি’র বাংলা বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি শুভ জ্যোতি ঘোষ। নিজেই কফি বানিয়ে আনলেন, জমে উঠলো আড্ডা। বিষয় আর কী! ‘বাংলাদেশ’ আর বাংলাদেশের ক্রিকেট। তিনি কলকাতার মানুষ, তাই ওপার বাংলার ক্রিকেট ও রাজনীতির বেশ ভালোই খবর রাখেন। আগের রাতে দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টাইগারদের বাজে হারে তার চোখেমুখে স্পষ্ট বিরক্তি। টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি’র প্রথম দুটি ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তরা কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি। কী কারণ এর নেপথ্যে! দলের ক্রিকেটাররা দেশের উইকেট নিয়ে অভিযোগ করলেও শুভ জ্যোতি এটি মানতে নারাজ। আড্ডা দিতে দিতে জানালেন এমন হারের পেছনে তার ভাবনার কথা-‘আমার মনে হয় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ যখন খেলতে নামে তখন একটি মেন্টাল ব্লক তাদের মধ্যে কাজ করে। মনে আছে ২০১৬তে বেঙ্গালুরুতে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক জেতা ম্যাচটি কীভাবে দলকে হারিয়ে দিলো! আসলে দু’টি জিনিস হয় একটি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে না আরেকটি হলো জেতার মতো অবস্থাতে এসে হেরে যায়।’
ভারতে আসার আগে পাকিস্তানকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ দল তাদেরই মাটিতে। যে কারণে সবার বিশ্বাস ছিল ভারতে হয়তো জিততে না পারলেও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে টাইগাররা। কিন্তু চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্ট সাড়ে তিনদিনে হার! আর কানপুরে বৃষ্টিতে ৩ দিন ভেসে যায়। কিন্তু শেষ দুই দিনেই ভারত ব্যাটিং-বোলিংয়ে রেকর্ড গড়ে জিতে যায়। গোয়ালিয়রে প্রথম টি- টোয়েন্টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি। দিল্লিতে এসে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা খুঁজে পেয়েছিল। কিন্তু সেই ম্যাচে বড় রানের ব্যবধানে হার! এমন হারের জন্য যতটা টাইগারদের স্কিলের দায় তারচেয়ে বেশি মানসিক দুর্বলতা। কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন বিবিসি’র বিশেষ প্রতিনিধি। শুভ জ্যোতি বলেন, ‘আশা করেছিলাম পাকিস্তানে যেভাবে খেলেছে সেটির একটি ধারাবাহিকতা রাখবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আগের মতোই চাপ নিতে ব্যর্থ। আমার কাছে মনে হয় ভারত দলে যে বড় বড় নামগুলো প্রভাব ফেলে বাংলাদেশের ওপর। আমি ২০০৫ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ফলো করি। যখন ইংল্যান্ডে বাংলাদেশ সিরিজ খেলতে গিয়েছিল। আমার মনে আছে সেটি মুশফিকের প্রথম সিরিজ, একেবারেই বাচ্চা ছেলে। সেখানে আশরাফুল বেশ ভালো খেলেছিল। যাই হোক, তখন থেকেই দেখছি ভারত সামনে এলেই তাদের মধ্যে একটা ‘মাইন্ড ব্লক’ কাজ করে। নার্ভের ওপর চাপ ফেলে। জিতেছে কয়েকবার এটাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেক ক্লোজ ম্যাচ বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে হেরেছে। টেস্ট, টি-টোয়েন্টি এই দুটি ফরম্যাটে বাংলাদেশ যে ভারতকে হারাতে পারে তারা সেই বিশ্বাসটাও খুঁজে পায় না। তারা এমন করে যে জিতে থাকা ম্যাচেও তারা হঠাৎ করে সব এলোমেলো করে ফেলে। কিন্তু দেখেন একই সময় অন্য দলগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কিন্তু এমন নয়। তারা দারুণ খেলে।’
২০১৯, দিল্লির আকাশে ঘন ধোঁয়াশা। বায়ুদূষণ বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হবে কি হবে না তা নিয়ে শঙ্কা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলতে মাঠে জিতে দিল্লির দিল জিতে নেয় বাংলাদেশ। সেবারই প্রথম আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এসেছিল টাইগাররা। অবশ্য পরের টানা দুই টি- টোয়েন্টি টানা হার ও টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। ঠিক পাঁচ বছর পর এসে একই পরিণতি। দিল্লি জয়ের যে সুখস্মৃতি ছিল সেটি এবারের বাজে হারের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল। এমন পারফরম্যান্সের নেপথ্যে বড় কারণ জানালেন শুভ জ্যোতি। তার মতে, ‘এটাতে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই যে ভারত অনেক অনেক ভালো দল। ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই ভারত অনেক এগিয়ে। তাদের শত বছরের ক্রিকেট খেলার ইতিহাস। আর বাংলাদেশ তো সেই হিসাব করলে শুরু করলো মাত্র। এখানে দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ সবার একটি আলাদা ক্রিকেট কালচার আছে। আর গেল ১০/১২ বছরে আইপিএল ভারতের ক্রিকেটকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যে কারণে টেস্টেও তারা টি- টোয়েন্টির মতো খেলতে পারে। কানপুরই তো তার প্রমাণ বাংলাদেশ কল্পনাও করতে পারেনি এমন একটি বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচ শেষ দুইদিনে ভারত জিতে যাবে।’
‘সাকিব-মাহমুদুল্লাহদের বিদায় বাস্তবতা’
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের পরও ভারতে বাংলাদেশ দল দু’টি কারণে বেশ আলোচনায়। কানপুরে হঠাৎ করেই দুই ফরম্যাট থেকে অবসরে ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। এরপর দিল্লিতে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ জানিয়ে দেন তিনিও আর টি-টোয়েন্টি খেলবেন না। ভেবেচিন্তে অবসর নিয়েছেন। এই দুই ঘোষণাতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষ হয়ে গেল টাইগার পঞ্চপাণ্ডবের ইতিহাস। এর আগে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম ইকবাল, মুশফিক এই ফরম্যাট ছেড়েছেন। কেউ কেউ এটিকে দলের জন্য আশীর্বাদ মনে করেন। তবে শুভ জ্যোতির কাছে এটি বাস্তবতা। তার মতে, ‘ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে এমন বড় বড় ক্রিকেটাররা একটা সময় বিদায় নিয়েছেন। বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডব বলে যারা পরিচিত তাদের আর টি- টোয়েন্টিতে দেখা যাবে না। এমনকী ধীরে ধীরে তারা অন্য কোনো ফরম্যাটেও থাকবেন না। এটি আসলে আশীর্বাদও না আবার দলের জন্য বড় কোনো ক্ষতি বা অভিশাপও না। আমি মনে করি এটাই বাস্তবতা, তাদের চলে যেতে হবে, গেছেন। এখন নতুনরা সেখানে জায়গা করে নেবে। এখন দেখার বিষয় যে, বেঞ্চটা আছে সেখানে তাদের অভাব পূরণ করার মতো কেউ আছে কিনা। যদি থাকে ভালো নয়তো বেশ কিছু দিন স্ট্রাগল করতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের কোথায়
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ওবায়দুল কাদের কোথায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোথায়? তিনি দেশে, নাকি বিদেশে? এ নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্যসহ নানা আলোচনা রয়েছে। অবশ্য এর মধ্যেই ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগে নিজের সাংগঠনিক অবস্থান হারিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া না হলেও তাঁর নামে দলের কোনো বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েক সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ মাঝারি পর্যায়ের অনেক নেতা গত ৫ আগস্ট ছাত্র- জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ভারত ছাড়াও বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে গেছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ নেতাই ভারতে রয়েছেন। অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদের গ্রেপ্তার এড়াতে পেরেছেন। তাঁর অবস্থান কোথায়, সেটি এখনও অস্পষ্ট। তবে ভারতে অবস্থানকারী অনেকেই বলছেন, কাদের সে দেশে যাননি।
কেউ কেউ বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কারও দাবি, সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ডে। আবার কারও ধারণা, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী দেশ ছাড়ার সুযোগ পাননি। তিনি দেশেই আছেন। সীমান্তবর্তী একটি জেলায় অবস্থান করছেন। সুযোগ পেলেই যে কোনো মুহূর্তে ভারতে যাবেন। সব মিলিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মী দলের সাধারণ সম্পাদকের অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন।
ভারত,আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে থাকা নেতারাও ওবায়দুল কাদেরের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গণঅভ্যুত্থান পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো-আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নানা ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করে ব্যক্তি ওবায়দুল কাদেরের দিকে আঙুল তোলেন। তাদের দাবি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বড় দায় তাঁর ঘাড়ে চাপে। সংগঠনে তিনি নিজেকে 'একক কর্তৃত্বের' জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওবায়দুল কাদের আর কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না।
ভারতে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীর সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের দেখা হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন নেতা সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর রোষানলের শিকার হয়ে ইতোমধ্যে ভারতে নাজেহাল হয়েছেন প্রভাবশালী একজন সাবেক মন্ত্রী। ওবায়দুল কাদেরের বেলায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
কাদেরকে ঘিরে থাকা অন্তত সাতজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতার পাশাপাশি কমপক্ষে তিনজন সাবেক মন্ত্রী ও একজন সাবেক উপদেষ্টার কারণে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে নেতাকর্মীর দূরত্ব বেড়েছিল। তাদের কারণে কেন্দ্রীয় নেতা অনেকেই ইচ্ছা থাকার পরও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে ওই সময়কার বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত দিতে পারতেন না।
ইত্তেফাক
‘টাস্কফোর্স গঠনের পরও কমানো যাচ্ছে না নিত্যপণ্যের দাম’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান খবর। প্রতিবেদন বলা হয়, বাজার তদারকিতে সারাদেশে টাস্কফোর্স গঠন করেও কমানো যাচ্ছে না নিত্যপণ্যের দাম। গত সোমবার দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করার পর ডিম ও ব্রয়লার মুরগীর দাম আরো বেড়েছে। এছাড়া নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে ময়দা, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, পামঅয়েল ও গরুর মাংস। আর সবজির বাজারেতো রীতিমতো আগুন। সবমিলিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে ভোক্তারা। সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পণ্যের দাম কমাতে ইতিমধ্যে কোন কোন পণ্যের শুল্ককর কমিয়েছে সরকার। আবার কোনটির শুল্ককর কমানোর উদ্যেগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রায় প্রতিদিনই বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু এর সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাজারে এখনো সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারব্যবস্থা রীতিমতো অসহায়।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি প্যাকেট ময়দায় ৫ টাকা বেড়ে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, দেশী পেঁয়াজে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলে ২০ টাকা বেড়ে ৮০০ থেকে ৮১০ টাকা ও খোলা পামঅয়েলে ৩ থেকে ৭ টাকা বেড়ে ১৪৪ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর আগে থেকে বাড়তে থাকা ডিম ও ব্রয়লার মুরগীর দাম আরো বেড়েছে। এরমধ্যে ফার্মের বাদামি রংয়ের ডিমের হালিতে ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগীর কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে তা ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বিপনন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকালের বাজারদরের প্রতিবেদনেও এই পণ্যগুলোর দাম বাড়ার তথ্য জানিয়েছে। অথচ অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে টাকার সরবরাহ কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করেছে।
এছাড়া, গত মাসে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনির ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি অপরিশোধিত চিনির শুল্ককর ১১ দশমিক ১৮ টাকা এবং পরিশোধিত চিনির শুল্ককর ১৪ দশমিক ২৬ টাকা কমবে। কমানো হয়েছে পেঁয়াজের শুল্ককরও।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সম্পদ সন্ধানে ৫ কৌশল’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশ থেকে পাচারের টাকা সন্ধানে পাঁচ কৌশলে এগোতে চায় টাস্কফোর্স। এগুলো হচ্ছে আমদানি পণ্য এবং রপ্তানির মূল্য দেশে না আনা, আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য, হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে এবং অন্যান্য পন্থায় টাকা পাচার। উপকরণগুলোর তথ্য সংগ্রহের পর বিশ্লেষণের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে দেশ থেকে কারা, কিভাবে টাকা পাচার করেছে।
দ্বিতীয়ত, কোন কোন দেশে পাচার করেছে এবং পাচার করা সম্পদ কি অবস্থায় আছে। পাচারের টাকা শনাক্ত ও দেশে ফেরাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষেত্রভেদে এর আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সাবেক ১৪ মন্ত্রী, ১৬ এমপি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের তথ্য জানতে বিএফআইইউ থেকে এগমন্ট গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহের পর পাচারকারীর বিরুদ্ধে আরও বহুমুখী তদন্ত শেষে বিশদ প্রতিবেদন তৈরি হবে। এর ভিত্তিতে হবে মামলা। মামলা পরিচালনায় দক্ষ আইনজীবী নিয়োগের পাশাপাশি সরকারি অন্যান্য সংস্থা থেকেও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। আদালতে পাচারের ঘটনা প্রমাণ করা গেলেই সেগুলো ফিরিয়ে আনার জন্য জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রক্রিয়ায় সরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কাজে লাগানো হবে।
পাচার করা সম্পদ দেশে ফেরত আনা এবং ওইসব সম্পদের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সম্প্রতি পুনর্গঠিত টাস্কফোর্স এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এগোতে চায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রধান করে সম্প্রতি এই টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করা হয়। বুধবার টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে টাস্কফোর্সের সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশ থেকে কারা কিভাবে টাকা পাচার করেছেন, কোথায় করেছেন, সেগুলো কিভাবে শনাক্ত এবং ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘বিপুল ব্যয়ে স্টেশনবিলাস’। খবরে বলা হয়, প্রায় ৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি রেলস্টেশন নির্মাণ করেছে রেলওয়ে। প্রতিদিন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি যাত্রী যাতায়াত করবে—এমনটা ধরে নিয়ে স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত তিন বছরে স্টেশনটি থেকে দিনে গড়ে যাত্রী যাতায়াত করেছে মাত্র ৪৭ জন। কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন–ভাতা, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচের হিসাবে বছরে এই স্টেশনে ব্যয় ৩০ লাখ টাকার বেশি। অথচ বছরে গড় আয় সোয়া ৯ লাখ টাকা। রেলওয়ে সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের পাশে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন বিশাল পরিসরে এই স্টেশন ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হয়। চালুর ছয় বছর পর দেখা যাচ্ছে, এই স্টেশনে মাত্র দুটি ট্রেন থামে। এগুলো হচ্ছে টাঙ্গাইল কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস। অথচ এই স্টেশন হয়ে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ও উত্তরবঙ্গের পথে ৪০টি ট্রেন চলাচল করে। মূলত যাত্রী না পাওয়ায় এসব ট্রেন এই স্টেশনে থামানো হয় না।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের গত সাড়ে ১৫ বছরে রেলের যাত্রীসেবা উন্নত করা হয়নি। কেনা হয়নি রেলের প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও কোচ। জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। অথচ এই সময়ে বিপুল ব্যয়ে নতুন রেললাইনের পাশাপাশি স্টেশন ভবন নির্মাণ ও মেরামত করা হয়েছে। যদিও এসব স্টেশন দিয়ে ট্রেন চলে না কিংবা চললেও থামে না। ফলে সাধারণ মানুষের তা কোনো কাজে লাগছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত সাড়ে ১৫ বছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো আগ–পাছ বিবেচনা করা হয়নি। খেয়ালখুশিমতো অবকাঠামো বানানো হয়েছে। এখন যেখানেই হাত দিই, সেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এভাবে অপরিকল্পিতভাবে কোনো প্রকল্প নেবে না। অতীতের অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম নিত্যপণ্যের বাজারে ‘এক-এগারো সিনড্রোম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে। দায়িত্ব গ্রহণের পরই সারা দেশে জোরদার করা হয় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। অভিযান থেকে রক্ষা পেতে গা ঢাকা দেন অনেক বড় ব্যবসায়ী। ব্যাহত হয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা। ওই বছর দেশে ঘটে যায় দুই দফা বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সিডর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষি খাত। এসবের প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠে বাজার পরিস্থিতি।
খাদ্য আমদানির উদ্যোগ নিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়নি। ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় মূল্যস্ফীতি। আর খাদ্য মূল্যস্ফীতি ওঠে প্রায় ১৭ শতাংশে। নিত্যপণ্যের দামের এমন উত্থানে সে সময় জনরোষ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে নির্বাচন দিয়ে সরে যেতে বাধ্য হয় ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
দেড় দশকের মাথায় নিত্যপণ্যের বাজারে সে সময়কার পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের দায়িত্ব নিয়েছে অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১২ দিনের মাথায় দেশের মধ্য-পূর্বাঞ্চলীয় ১১ জেলায় দেখা দেয় স্মরণকালের ভয়াবহ এক বন্যা। এতে শুধু কৃষি খাতেই ক্ষয়ক্ষতি হয় অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ক্ষয়ক্ষতির প্রায় ৩৬ শতাংশ। এ বন্যার প্রভাব কাটিয়ে না উঠতেই চলতি মাসের শুরুতে আবার বন্যাক্রান্ত হয় শেরপুর, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও জামালপুর। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ বন্যায় শুধু কৃষি খাতেই ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার।
কালের কণ্ঠ
সাবেক এমপির দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর ‘হারুন ব্রাদার্সের দাপট-দৌরাত্ম্য’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগী সাবেক এমপি বজলুল হক হারুন। ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য ‘বি এইচ হারুন’ নামেই এলাকায় পরিচিতি পেলেও সুনামের চেয়ে তাঁর দুর্নামই বেশি। এমপি ছিলেন ঠিকই; তবে এলাকায় যাতায়াত ছিল কম। তবে নিজে না থাকলেও এলাকা দাপিয়ে বেড়াতেন তাঁর ছোট ভাই মুজিবুল হক কামাল।
বলা যায়, তিনিই ছিলেন এলাকার অলিখিত এমপি, যাঁকে সবাই ‘বিকল্প এমপি’ বলেই জানত। সব চলত তাঁরই নিয়ন্ত্রণে। ছোট ভাই কামালকে এক পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও বানিয়েছিলেন বি এইচ হারুন। এমপি হারুন আর তাঁর ভাই মিলে ত্রাণের অনুদান থেকে শুরু করে গত ১৫ বছরে কাবিটা-কাবিখার বেশির ভাগই আত্মসাৎ করেছেন।
ক্ষমতায় থেকে এই পরিবার এখন অন্তত ৬০০ কোটি টাকার মালিক বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। গত কয়েক দিন রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট প্রকল্পে ৫০ হাজার বরাদ্দ হলে সেখানে খরচ করা হতো মাত্র ১০ হাজার টাকা। বাকি ৪০ হাজার টাকাই আত্মসাৎ করতেন। আবার অপ্রয়োজনীয় কাজও করেছেন।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘খেলাপি ঋণেই শ্বাসরুদ্ধ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ খেলাপি ঋণ রেখে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। বারবার পুনঃতফসিল করে, আদালতের স্থগিতাদেশ ও অবলোপনের পরও ঋণখেলাপের সমস্যার সমাধান হয়নি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ছয়টি ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিতরণ করা মোট ঋণের ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
ঋণখেলাপের তালিকায় দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকও রয়েছে। ৩০ শতাংশের ওপর খেলাপি ঋণ রয়েছে আরও চার ব্যাংকের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৫-১৬ সালের পর নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কিছু গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে এসব ব্যাংক।
যারা ঋণখেলাপ করেছে তাদের অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাদের অনুকূলে বিভিন্ন সময়ে ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ, অবলোপন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। ফলে অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে বেশ কিছু ব্যাংক। এসব ব্যাংকের বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে সংকট আরও গভীর হবে।
আজকের পত্রিকা
‘শেখ পরিবারের সদস্যরা এখন কে কোথায়’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। দলের সভাপতি ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ওই দিনই ভারতে চলে যান। এরপর দ্রুত আত্মগোপনে চলে যান দেশে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও চার মেয়াদের বিভিন্ন সময় দায়িত্বে থাকা সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাবেক সরকারের অনেক এমপি-মন্ত্রীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতাই এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে গত সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বৃহত্তর শেখ পরিবারের সদস্যরা।
শেখ হাসিনার স্বজনেরা গত সাড়ে ১৫ বছরে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, মেয়রসহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সহযোগী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে
দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত আটজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ছিলেন। এমপি হয়েছিলেন প্রায় ১৫ জন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের মেয়র তিনজন, সহযোগী সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনজন। আওয়ামী লীগের পুরো মেয়াদে সরকার থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখনো তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। ৫ আগস্টের পরে একাধিকবার ফেসবুকে লাইভে এসে বিভিন্ন কথা বলেছেন। শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক মহাপরিচালক। তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন।
পুতুলের শ্বশুর খন্দকার মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন তিনি। আলোচনায় আছে, সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ছিটকে গেছেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে আছেন বলে জানা গেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা বোন শেখ হাসিনার সঙ্গে ৫ আগস্টই ভারতে চলে যান। তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। তাঁর ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) পরিচালিত হয়। শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সংসদ সদস্য। আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী। তাঁরা সবাই ব্রিটেনে আছেন বলে জানা গেছে।
ডেইলি স্টার
দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম ‘Price hike of essentials: Poor, middle class in a tight corner’ অর্থাৎ ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি: দরিদ্র, মধ্যবিত্তরা কোণঠাসা’।
ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে বাজার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন এক মাস আগে ঢেড়শের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা। সেটার দাম বর্তমানে ১১০ টাকা কেজি। কুমড়ার দাম গত মাসে কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এখন তা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করলার দামও মাসের ব্যবধানে ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে কেজি প্রতি ১০০-১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। টমেটো প্রতিকেজি ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬০ টাকা। এক মাস আগের তুলনায় বেগুন প্রতিকেজি ১০০-১৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে কেজি ১৮০-২০০ টাকা। শিম প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০-১৬০ টাকা।
নতুন সরকার সবজির দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে উদাসীন বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। এ কারণে নিম্ন ও স্থির আয়ের পরিবারগুলো ব্যাপক সংকটের মুখে পড়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘সামাজিক অস্থিরতা বাড়ছেই’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকার পতনের পর হঠাৎ করেই যেন বেড়ে চলছে সামাজিক অস্থিরতা। রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি দিনদুপুরে ঘটছে ছিনতাই ও নারী হেনস্তার ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে নীরব চাঁদাবাজি, দখল।
নানা অজুহাতে তৈরি হচ্ছে শ্রমিক অসন্তোষ। অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। মাঝে মাঝেই দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনিতে নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মহল বিরামহীনভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে পরিস্থিতি অশান্ত করতে। পার্শ্ববর্তী একটি দেশ সেটাকে উসকানি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিমত তাদের।
মানবাধিকারকর্মী ও অপরাধ বিশ্লেষক নূর খান বলেন, সাবেক স্বৈরাচার সরকার সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়ে পালিয়েছে। তবে তার অনুচরেরা রয়ে গেছে। তারা এখনো সক্রিয়। সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে। তবে সরকারের উচিত হবে কঠোর হস্তে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা।

